সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা ইয়াসিন বাহিনীর প্রধানসহ ২৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা ইয়াসিন বাহিনীর প্রধানসহ ২৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আলিনগরের কুখ্যাত ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাবের এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জাহিদ, ইউনুসআরিফ। তাঁদের মধ্যে দুজন মামলার এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি অভিযানে গেলে র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) ও বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই হামলায় আরও তিনজন র‍্যাব সদস্য আহত হন। তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের তিন সদস্যকে জিম্মি করে এবং চারটি অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে রাতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে র‍্যাব ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। একই সময় প্রতিপক্ষ রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ইয়াসিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকবেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করে।

বিকেল পৌনে চারটার দিকে অভিযানে যাওয়া র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে চারজন র‍্যাব সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে রেখে তাঁদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। পরে স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তায় সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে এখানে নিয়মিত সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইয়াসিন ও রুকন নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে ইয়াসিন বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় তৎপর বলে জানা গেছে। অপরদিকে রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.