ওএমএসের লাইনে মধ্যবিত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ায় জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কিছুটা কম দামে খোলা বাজারের (ওএমএস) পণ্য পেতে নিরুপায় হয়ে নিম্নবিত্তদের সঙ্গে অনেক মধ্যবিত্তও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে এ লাইন। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ক্রেতা বেশি হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য পাচ্ছেন না।

 

গতকাল রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় ওএমএসের ট্রাকের লাইনে দাঁড়ানো বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানান- খাদ্যপণ্য কিনতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিয়মিত বাজার থেকে কিনে সংসার চালানো সম্ভব না। তাই কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় ওএমএসের ট্রাকের সামনে লাইন ধরতে হয়। তবে ওএমএসের দীর্ঘ লাইনে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বয়স্করা।

ষাটোর্ধ্ব সুফিয়া বানু বলেন- ‘জামাই নাই- কে নিব, বয়স হইয়া গেছে ৬০। মাজায় ব্যথা, হার্টের রোগী। ঠেলাঠেলির মধ্যে ঢুকতে পারি না, বইসা থাকি, ভিড় কমলে যদি কিছু থাকে নিমু।’

 

তিনি জানান, ঘরে দুই মেয়ে আর এক ছেলে আছে। ছেলেটা ছোট, স্কুলে যায়, কাজে লাগেনি এখনও। স্বামী গত হয়েছেন আগেই। তাই খাদ্যপণ্য কিনতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ঝক্কি পোহানোর মত শরীরের অবস্থা নেই। সাহাদুল হক নামে একজন বলেন, ‘সপ্তাহে দুইদিন এখানে চাল নিতে আসি। আমার শ্বাসের ব্যারাম, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়াইলে মাথা ঘুরায়, এইজন্য এখানে এসে বসছি।’

 

শেওড়াপাড়ায় ওএমএসের ট্রাকের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফাহিম খান। বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একসময়ের এই শিক্ষক সেখানে দাঁড়িয়েছেন সকাল পৌনে ৯টায়, বেলা ১১টার সময়ও তিনি ট্রাক ছুঁতে পারেননি।

 

অসহায় কণ্ঠে ফাহিম খান বললেন, ‘আমার ফ্যামিলিতে ১৫ জন মানুষ। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমার পক্ষে নিয়মিত বাজার থেকে কিনে সংসার চালানো সম্ভব না। লাইনে দাঁড়িয়ে যা পাই তা যে যথেষ্ট- তাও না, কিন্তু খরচ কিছুটা কমে। সমস্যা হচ্ছে, অনেক মানুষেরই আমার মত দরকার, তাও যদি পাওয়া যায়, তাহলে ভালো।’

 

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.