হলুদ তরমুজের চাষ হচ্ছে রাণীনগরে

কৃষি সমৃদ্ধ জেলা নওগাঁর রাণীনগরে প্রান্তিক জনপদের এক কৃষক ধান চাষের পাশাপাশি প্রথম বারের মতো মাচা ও জালি পদ্ধুতিতে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ তরমুজের চাষ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় দুই মাস বয়সের মধ্যে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ ও নিবিড় পরিচর্যার কারণে গাছের ডগায় ডগায় হলুদ তরমুজ ঝুলছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারজাত করা যাবে বলে আশা করছেন কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান। অল্প সময়ের মধ্যে ভালো ফলন ও দাম বেশি পাওয়ার আশায় প্রথম দফায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমান বাজারে এই জাতের তরমুজ ৮০ থেকে ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জানা গেছে, উপজেলা পারইল ইউনিয়নের কামতা গ্রামের ছাবেদ সরদারের ছেলে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৮) ২০০৬ সালে নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম,এ পাশ করার পর আশানূরুপ কোন কর্মসংস্থান না হওয়ায় বাবার পৈত্রিক সম্পত্তির উপরে নির্ভর করে ধান চাষের পাশাপাশি নানা জাতের ফল ও সবজি চাষ করতে থাকেন। সব মিলে ভালো চললেও পর্যায় ক্রমে কালো জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন।

প্রতি মৌসুমে তার জমিতে কোন না কোন বিশেষ ধরণের ফল চাষে বিশেষ পারদর্শী মোস্তাফিজুর রহমান। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ডিসেম্বর মাসে তার চাচাতো ভাই আব্দুল মজিদের মাধ্যমে ঢাকার এক বীজ ভান্ডার থেকে হলুদ তরমুজের বীজ নিয়ে নিজ বাড়িতে চারা তৈরি করেন। লাগানোর উপযুক্ত হতেই চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১বিঘা জমিতে হলুদ তরমুজের চারা রোপন করেন। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাচা তৈরি করে নিবিড় পরিচর্যার কারণে গাছের ডগায় ডগায় এখন হলুদ তরমুজ ঝুলছে। ওজনে বড় হওয়ার কারণে বোঁটা থেকে তরমুজ যাতে ছিঁড়ে না পড়ে সেই জন্য প্রতিটি তরমুজ জালির আওতায় আনা হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ তরমুজ চাষ করে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিবির পরিচর্চা ও কোন রোগ-বালাই না হওয়ায় স্বল্প খরচে ভাল ফলন ও দাম পেয়ে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মোস্তাফিজ। ধীরে ধীরে প্রতিবেশি চাষিদের মাঝেও সাড়া জাগাচ্ছেন তিনি। বেকারত্ব দূর করে স্বাভলম্ভী হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। আগামীতে এই তরমুজ চাষের পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম জানান, মোস্তাফিজুর রহমান একজন ভালো কৃষক। ধানসহ বিভিন্ন সবজি ও ফল চাষে পারদর্শী। পরীক্ষামূলকভাবে সে প্রায় এক বিঘা জমিতে হলুদ তরমুজ চাষ করেছে ফলনও আশানূরুপ হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ দিক নির্দেশনা, সময় মত সঠিক পরিচর্চাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই এলাকায় হলুদ তরমুজ চাষ নতুন হলেও বাজারে চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় তিনি লাভবান হবেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.