সরিষাবাড়ী হিসার রক্ষণ অফিস থেকে ৪২লক্ষাধিক টাকা লা-পাত্তা

সরিষাবাড়ী সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি:

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে ৪২ লক্ষাধিক টাকা লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের মাষ্টার রোল ভিত্তিক কর্মচারী শাকিবুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় পৃথক দু,টি ডায়েরী করেছেন বলে জানা যায়।

উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস সূত্রে প্রকাশ, হিসাব রক্ষণ অফিসার পদে স্নিগ্ধ রায়হান ২০২১ ইং সালে শেষের দিকে সরিষাবাড়ীতে যোগদান করেন। উক্ত অফিসে মাষ্টার রোল ভিত্তিক কর্মচারী শাকিবুল পূর্বে স্বাক্ষরিত ভূয়া একটি বিল ১৬ ফেব্র“য়ারী/২১ইং দুপুরে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার নিকট পেশ করেন। বিচক্ষণ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান ১১লক্ষ ৬৭ হাজার টাকার বিলটি যাচাই বাছাই শেষে জাল বিল বলে শনাক্ত করেন। এ বিষয়ে শাকিবুলকে জব্দ করা হলে সে কৌশলে গা ঢাকা দেয়। ১৭ফেব্র“য়ারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে শাকিবুলের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী রুজু করেন। যার নং ৬৫১। অপর দিকে উক্ত অফিসের কার্যক্রম পর্যালোচানা করে হিসাব রক্ষণ অফিসার স্নিগ্ধ রায়হান শাকিবুলের বিরুদ্ধে গত দুই বছর যাবৎ জালিয়াতির বিষয়টি লক্ষ্য করেন। শাকিবুল হিসাব রক্ষণ অফিসে দুই বছর পূর্বে যোগদানের পর থেকে ৪০লক্ষাধিক টাকা ভূযা বিল ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে বলেও জানা যায়। এ বিষয়ে পৃথক আরেকটি জিডি করেন স্নিগ্ধ রায়হান। যার নাম্বার-৮৯৪। তারিখ ২৩ ফেব্র“য়ারী/২১ইং।

উপজেলা পিআইও অফিস, এলজিইডি অফিস ী যুব উন্নয়ন অফিসের কোড নাম্বার ব্যবহার করে ওই সব বিলগুলো উত্তোলিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী পিআইও অফিস, এলজিইডি অফিস ও যুব উন্নয়ন অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হানের নিকট জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাষ্টার রোলে কর্মরত কর্মচারী শাকিবুল ১১লক্ষ ৬৭ হাজার একটি বিলে আমার নিকট স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে এলে আমার সন্দেহ হয়। যাচাই বাছাই করে জানতে পারি বিলটি ভূয়া। তাৎক্ষণিক তাকে জব্দ করা হলে সে কৌশলে গা ঢাকা দেয়। এ ছাড়াও অফিসের পূর্বের বিল ভাউচার যাচাই বাছাই করে গত দুই বছরে মোট ৪০লক্ষাধিক টাকার তছরুপ চোখে পড়ে। শাকিবুল অফিসের যোগদানের পর থেকেই ওইসব ভূয়া ভাউচারে জনৈক মানিক নামে (একই ব্যক্তি) দুইবার টাকা উত্তোলিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে।

উর্দ্ধতন দপ্তরের পরামর্শ ও নির্দেশে শাকিবুলের নামে পৃথক দু,টি ডায়রী রুজু করা হয়েছে। পুনরায় বিভাগীয় তদন্ত ও দুদকের মাধ্যমে তদন্ত হবে বলেও উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সকালের সময়কে জানান।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.