দ্বিতীয় স্বামীর সহায়তায় তৃতীয় স্বামীকে বুড়িগঙ্গায় ফেলেন স্ত্রী

দ্বিতীয় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী উম্মে হাবিবা কনাকে যশোরের অভয়নগর থেকে আটক করেছে র‌্যাব। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অভয়নগর থেকে তাকে আটক করা হয়। র‌্যাবকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন কনা।

 

র‌্যাব-৬ যশোরের অধিনায়ক লে. কমান্ডার এম নাজিউর রহমান জানান, ২০২০ সালের ৫ জুলাই ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায় মৃত ব্যক্তি যশোরের চৌগাছার আসলাম উদ্দীন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। তারপর থেকে র‍্যাব মামলার ছায়া তদন্ত করে আসছিল। তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রীর জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, আসলামের স্ত্রী কনা যশোরের অভয়নগর এসে আত্মগোপনে রয়েছেন। এরপর বুধবার অভয়নগরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর কনা তার স্বামীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

এ হত্যাকাণ্ড দায়ের করা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তা কনা এবং মো. ডালিমের (৩৮) নাম জানতে পারেন। আসলামকে হত্যার পর তারা দু’জনই পলাতক ছিলেন। মামলাটি তদন্তের সময় ডালিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কনা জানিয়েছে টাকা-পয়সা আত্মসাতের কারণে সে একাধিক বিয়ে করেছে। টাকা-পয়সা আত্মসাতের পর দ্বিতীয় স্বামীর সহযোগিতায় আসলামকে হত্যা করে।

 

র‌্যাব জানায়, ডালিম হচ্ছে কনার দ্বিতীয় স্বামী এবং আসলাম তৃতীয় স্বামী। কনা দ্বিতীয় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে আসলামকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। র‍্যাব অধিনায়ক আরও জানান, আটককৃত আসামিকে কেরাণীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.