জামালপুরে এক ইনকাম ট্যাক্স অফিসারের টাকার গরমে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চরজামিরা এলাকার নিলু মন্ডলের পুত্র জাফর। কৃষক পুত্র জাফরের ভাগ্যের জুড়ে চাকরি মিলে ইনকাম ট্যাক্স অফিসে। যতটুকু জানাগেছে তিনি ইনকাম ট্যাক্সের একজন ইন্সপেক্টর। আর চাকরি পাবার পর থেকেই তৎকালীন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের দলীয় তকমা লাগিয়ে হয়ে উঠেন একজন টাকার কুমিড়। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কৃষক পিতার সন্তান জাফর বাড়িঘরের আমল পরিবর্তন ঘটান। বাড়ি গাড়ি আর প্রাচুর্যের জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন।

 নিজের স্ট্যাটাস বাড়াতে বাড়ি গাড়ির সাথে চাই সুন্দরী বউ। সেজন্য বিয়ে করেন একটি ময়দার মিলের নাইট গার্ডের সুন্দরী মেয়েকে। বউয়ের মন রক্ষার্থে বউকে দেন ৪০ ভরি স্বর্ণের গয়না কোটি টাকার ডিপোজিট। নিজের বাড়ির এলাকার রাস্তা খারাপ থাকায় নিজস্ব গাড়ি দিয়ে চলাফেরা করায় কষ্ট হওয়াতে নিজ খরচে ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করেন। অপরদিকে বউকে খুশি রাখতে শ্বশুড় বাড়ির লোকজনকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন নতুন রাজত্ব গড়া। অবৈধ টাকায় নিজ নামে সম্পত্তি কিনতে না পারলে সম্পত্তি কিনেন শ্বশুড়ের নামে। তারপর তার বউকে সম্পত্তি লিখে দেন তার শ্বশুড়।
এসব কর্মকান্ডে আশপাশের লোকজন বলতে শুরু করে নাইট গার্ড এতটাকা কোথায় পেল শহরের মাঝখানে জমি ও দুতলা বাড়ি কেনার। তার পাশাপাশি শালার জন্য ব্যবস্থা করেন ব্যবসা বাণিজ্যের। অন্যদিকে নাইট গার্ড শ্বশুড়কে প্রতিষ্ঠিত করতে দিয়ে দেন মেশিনারীজ ব্যবসা। এ দেখে লোকজন বলাবলি শুরু করে এত টাকা রাতারাতি এরা পায় কোথা থেকে। আবার কাউকে বলতে শুনা যায় জাফর তৎকালীন সরকার দলীয় নেতার পরিচয়ে অবৈধভাবে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। আর জাফরের কোটি কোটি টাকার গরমে তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজনকে মানুষই মনে করছে না।
তারা জাফরের টাকায় সকলের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন নিজ খরচে করে দেন। তার শ্বশুড় বাড়ির প্রতিবেশীদের সাথে কারো বনিবনা হয় না। প্রতিবেশী কয়েকটি ফ্যামিলীর সাথে জাফরের স্ত্রী মাঝে মধ্যেই ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। আর এ ঝগড়া  থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে কয়েকবার। তার শ্বশুড়বাড়ীর সাথে পাশের প্রতিবেশীদের সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ জাফরের শ্বশুড় বাড়ির লোকজন জামাইয়ের টাকার জুড়ে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে।
 আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই এই অসৎ সরকারী কর্মকর্তার টাকার জোরে আমরা সবসময় কোনঠাসা হয়ে থাকি। বিভিন্ন সময় তারা টাকার জোরে আমাদরকে লোকজন ও পুলিশ প্রশাসন দিয়ে হেস্তনেস্ত করেছেন। তাদের সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়ে মামলা রয়েছে। আদালতে মামলা থাকা স্বত্ত্বেও তারা আমাদের সম্পত্তি ভোগ দখল করে যাচ্ছেন। আমরা এসব বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.