- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
এক বছর আগে বীর বাহাদুর রেড ক্রিসেন্ট ম্যাটারনিটি হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি এখনো।
সে সময় বান্দরবান সদরের মিনি মৎস্য হ্যাচারির সামনে রেইছা লম্বা রাস্তার পশ্চিম দিকে প্রতিষ্ঠানটির জমিতে ভবনটি নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। ভবন নির্মাণে অর্থায়ন করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাচউবো)। কিন্তু এক বছর পার হলেও ঠিকাদার ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেননি। এতদিন পরও কেন ভবনের কাজ শুরু করা হয়নি, তা জানে না রেড ক্রিসেন্ট বান্দরবান ইউনিট অফিস।
পাচউবো সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে আহ্বান করা এক টেন্ডারে ভবনটি নির্মাণের কন্ট্রাক্ট পায় এমএম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার চুক্তিমূল্য ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও এর অনুকূলে কোনো বরাদ্দের অনুমোদন ছিল না।
জানা যায়, হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা হ্লামংপ্রæ মারমার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকায় ৩৫ শতক প্রথম শ্রেণীর জমি কেনে রেড ক্রিসেন্ট বান্দরবান ইউনিট। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান পদবিকে জমিটির স্বত্বাধিকারী করা হয়।
মাঝেরপাড়া এলাকায় মিনি মৎস্য হ্যাচারির সামনে কেরানিহাট-বান্দরবান (কেবি) সড়কের পশ্চিম পাশে রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের জমি। কেবি সড়কের মাঝের ঝিরির ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে যাওয়ার জন্য সেতুটি করতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। ১ কোটির কিছু বেশি টাকা চুক্তিমূল্যের সেতুটি বর্তমানে নির্মাণাধীন।
রেড ক্রিসেন্ট বান্দরবানের ইউনিট লেভেল অফিসার নাসরিন আকতার বলেন, ‘সরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে যেসব সেবা দেয়া হয় রেড ক্রিসেন্ট ম্যাটারনিটি হাসপাতালও একই ধরনের সেবা দেয়। ম্যাটারনিটি হাসপাতালের আগে বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের নাম সংযুক্ত হওয়ার পর বিষয়টির রেজুলেশন পাস হয়েছে। এজন্য রেড ক্রিসেন্টের তহবিলে তার দেয়া ৫ লাখ টাকা জমা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কেন এখনো কাজ শুরু করা যায়নি, সে বিষয়ে পাচউবো জেনে থাকবে।’
হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ কেন শুরু করা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নে পাচউবোর বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ওই সময় বরাদ্দ না থাকার কারণে ভবন নির্মাণ শুরু করা যায়নি। আর এখন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না, কারণ উপঠিকাদার বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ট বান্দরবান ইউনিটের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি দাশ লাপাত্তা।’
এ কর্মকর্তা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কাজের সময় শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হলে আবার টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.