- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

।।সাইফুর রহমান শামীম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ।।ধরলার চর মাধবরাম। গত বন্যায় এই গ্রামের পুরোটাই ডুবে ছিলো থৈ থৈ পানিতে। উজানে জগমোহনের চরে ছিলো প্রলয়ঙ্করী ভাঙন। তাই বালু পড়ে অনাবাদী হয়েছে এই চরের শত শত একর জমি। এবার সেই বালুকাময় জমিতে সূর্যমুখীর হাসি দেখে বুক ভরে গেছে কৃষকদের। সারি সারি হৃষ্ট পুষ্ট সূর্যমুখী গাছের ডগায় বড় বড় আকারের ফুল। যেন দিগন্ত জুড়ে হলুদের উৎসব।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, কুড়িগ্রামের চরভূমিতে সুর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করে চরের কৃষকের ভাগ্য বদলে যাবে। সেই সঙ্গে বদলে যাবে অনুন্নত এই জেলার অর্থনৈতিক চিত্র।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে রয়েছে ১৬টি নদ-নদী আর পাঁচ শতাধিক চর। এই চরের পতিত জমিতে সূর্যমূখী চাষ করে সাফল্য পাচ্ছে চাষিরা। বাড়ছে আবাদ। এতে করে একদিকে যেমন আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে পতিত অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষক।
গত বছর জেলায় ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হলেও এবার আবাদ হয়েছে ২০০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে দুই মেট্রিক টন সূর্যমূখী তেলবীজ উৎপাদন হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের দাম ৮০ টাকা। সে হিসেবে এবার জেলায় কমপক্ষে ৩২ কোটি টাকার সূর্যমুখীর তেলবীজ বিক্রি হবে। দাম বাড়লে এই অঙ্ক আরো বাড়বে।
কৃষকরা জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচ পড়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার তৈলবীজ।
সূর্যমুখী চাষি লাল মিয়াজানান, চরের জমিতে সূর্যমুখীর ভালো ফলন দেখে তারাও উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় চাষ করেছেন সূর্যমূখীর। ব্যাংক আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এলে বাণিজ্যিক ভিত্তিকে সুর্যমুখীর চাষ বাড়বে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, সদর উপজেলার ২০ একর জমিতে এবছর সূর্যমুখীর চাষ করেছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, জেলার ৪৬ হাজার চরভূমির বেশিরভাগে সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার দারিদ্র্য বিমোচনে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ জানান, রংপুর অঞ্চলে এবার এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে চারগুণ বেশ।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.